খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ী সিরাজগঞ্জের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এ.কে.এম. মনজুরে মাওলার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম।
উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসক মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষকদের স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দেশীয় ফলের উৎপাদন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং বাজারজাতকরণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংগ্রহোত্তর ক্ষতি হ্রাস, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্প্রসারণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ফল রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীন, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আনোয়ারুল হক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) কৃষিবিদ মো. আনোয়ার সাদাত, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মোহাম্মদ রেজাউল হক, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) জেরিন আহমেদ, খোকশাবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের সিনিয়র উদ্যানতত্ত্ববিদ কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস.এম. নাসিম হোসেন, তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শমিষ্ঠা সেনগুপ্তা, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হারুন অর-শিদ খান হাসান, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মতিয়ার রহমান, ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন সিরাজগঞ্জ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হাশেম আবুসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কৃষিপরিবার, বাগান ও নার্সারি মালিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইদী রহমান।
পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এ.কে. শামসুদ্দিন সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “দেশে আম, কাঁঠাল, পেয়ারাসহ লিচু, আনারস ও ড্রাগন ফলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ফলের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। নিরাপদ ও মানসম্মত ফল উৎপাদন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ফল রপ্তানি বৃদ্ধি করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।”
জানা গেছে, জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ আগামী ২০ জুন পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা দেশীয় ফলের বৈচিত্র্য, পুষ্টিগুণ, আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতি এবং সংরক্ষণ প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাবেন। আয়োজকরা আশা করছেন, এ মেলা ফল চাষে কৃষকদের আরও উৎসাহিত করবে এবং দেশীয় ফলের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন