খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের কোনো এক সময় চোরেরা পরিকল্পিতভাবে দুটি গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে সেখানে বাঁধা থাকা পাঁচটি গরু নিয়ে পালিয়ে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালঘর ফাঁকা দেখে হতবাক হয়ে পড়েন মালিকরা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম সরকার জানান, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতেও তিনি গোয়ালঘরে একটি ষাঁড় গরু, একটি বাছুর ও একটি গর্ভবতী গাভী বেঁধে রেখে ঘুমাতে যান। সকালে উঠে গোয়ালঘরের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। পরে ভেতরে গিয়ে দেখেন, তিনটি গরুই চুরি হয়ে গেছে। চুরি হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
একই গ্রামের অপর ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুর রাজ্জাক সরকার জানান, তাঁর গোয়ালঘর থেকেও একটি গাভী ও একটি ষাঁড় গরু চুরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করে গরুগুলো লালন-পালন করছিলেন তিনি। চুরি হওয়া গরু দুটির বাজারমূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। হঠাৎ এমন ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবার চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানান, গরুগুলো শুধু সম্পদই ছিল না, পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসও ছিল। এক রাতের ব্যবধানে এত বড় ক্ষতির মুখে পড়ে তারা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় সম্প্রতি গবাদিপশু চুরির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। সংঘবদ্ধ চোরচক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ খামারি ও গরুর মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি চুরি হওয়া গরু উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে চুরি হওয়া গরু উদ্ধারে পুলিশ কাজ করবে বলেও তিনি জানান।
মন্তব্য করুন