খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুর ১২টায় উপজেলার ব্র্যাক উল্লাপাড়া শাখা কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপকারভোগী কৃষকদের হাতে পাওয়ার টিলারের চাবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয়। ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির আওতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক উল্লাপাড়া শাখার এলাকা ব্যবস্থাপক মঞ্জিল হাসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, “দেশের কৃষি খাতকে আরও এগিয়ে নিতে আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই। কৃষকদের হাতে প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম পৌঁছে দিলে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি সময়ও সাশ্রয় হবে। ব্র্যাকের এ ধরনের উদ্যোগ প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে এবং স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি না করলে উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা কঠিন। তাই কৃষকদের আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. জসিম উদ্দিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের সিরাজগঞ্জ-৩ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল হান্নান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ব্র্যাকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপকারভোগী সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগী কৃষকদের মধ্যে তিনটি পাওয়ার টিলার বিতরণ করা হয়। পরে কৃষিযন্ত্রের সঠিক ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং কৃষি উৎপাদনে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়।
উপকারভোগী কৃষকরা ব্র্যাকের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পাওয়ার টিলার ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের কৃষিকাজ আরও সহজ, দ্রুত ও ব্যয় সাশ্রয়ী হবে। এতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আয়ও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
আয়োজকরা জানান, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও কৃষকদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন