খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
স্থানীয়দের অভিযোগ, হ্যাচারি থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নষ্ট, পচা ও না-ফোটা ডিম বের হলেও সেগুলো পরিবেশসম্মত উপায়ে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না। নির্ধারিত ডাম্পিং জোন বা নিরাপদ স্থানে মাটিচাপা দেওয়ার পরিবর্তে খোলা জায়গা ও লোকালয়ের আশপাশে ফেলে রাখা হচ্ছে। ফলে তীব্র গরমে এসব ডিম দ্রুত পচে গিয়ে আশপাশের এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, দুর্গন্ধের কারণে ঘরের দরজা-জানালা খোলা রাখা যাচ্ছে না। অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ, বিশ্রাম কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষেরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এছাড়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পচা ডিমের গন্ধে এলাকায় বসবাস করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। দিনের পর দিন এই দুর্ভোগ সহ্য করলেও সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না। দ্রুত এসব বর্জ্য অপসারণ ও স্থায়ী ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিতে হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, হ্যাচারির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বহীনতার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম বলেন, “হ্যাচারির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান এমন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে জানান, পরিবেশ দূষণ রোধে হ্যাচারির বর্জ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নিয়মনীতি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে পরিবেশ দূষণ বন্ধ হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে টাগড়া গ্রামের মানুষ।
মন্তব্য করুন