খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত ২৪ মে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন। তবে একই মামলার অপর অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুন এখনও কারাগারে রয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্লাস বর্জন করে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। এ সময় কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারাও বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত একজন প্রধান শিক্ষিকাকে পুনরায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ ও ভাবমূর্তির জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। তাদের দাবি, আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে প্রশাসনিকভাবে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা উচিত।
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন বলেন, “আমার বিদ্যালয়ে যোগদানে কোনো আইনি বাধা নেই। আমি সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ে এসেছি। তখন কোনো শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করেনি। পরে দুপুরের দিকে বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উসকানি দিয়ে এ কর্মসূচি করিয়েছেন।”
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামান বলেন, “প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি কিংবা শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে আইনগতভাবে তার দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই।”
উল্লেখ্য, গত ৯ মে শার্শার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের এসএসসি পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীকে অনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন ও বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুনকে আটক করে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষিকার মেয়ে অহনা খাতুন চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ওই কেন্দ্র থেকে অংশগ্রহণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার পর প্রধান শিক্ষিকা গোপনে মেয়ের উত্তরপত্র সংগ্রহ করে তাতে সংশোধন করেন এবং কর্মচারী ফাতেমা খাতুনের সহায়তায় তা পুনরায় জমা দেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। এরপর শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে আদালতের নির্দেশে দুই অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে প্রধান শিক্ষিকার পুনরায় যোগদান এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকতে পারে।
মন্তব্য করুন