খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় প্রায় দুই মাস ধরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড পদ শূন্য থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা না থাকায় ভূমিসংক্রান্ত প্রায় সব ধরনের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
নামজারি (মিউটেশন) থেকে শুরু করে জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ আটকে আছে। একইসঙ্গে পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রমও অনেকাংশে স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে কমছে সরকারের রাজস্ব আয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনীম জাহানের বদলি হয়। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি রেশমা খাতুন যোগদান করলেও ৯ মার্চ ছুটিতে যান। এরপর থেকে এ পদে নতুন কোনো কর্মকর্তা যোগদান করেননি।
বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এসিল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ইউএনও’র নিজস্ব প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি ভূমি অফিস ও পৌরসভার দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন।
উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের জনগণ প্রতিদিন ভূমি অফিসে এসে প্রয়োজনীয় কাজ করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের বিথি খাতুন, নগরবর্ণী গ্রামের আক্তারুজ্জামান ও মনিরুজ্জামানসহ অনেকেই এক থেকে দেড় মাস আগে নামজারির আবেদন করলেও এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।
জগদিসপুর গ্রামের মফিজুর রহমান বলেন, “দেড় মাস আগে নামজারি দিয়েছি, এখনও পাইনি। নামজারি না হলে জমি রেজিস্ট্রি করতে পারছি না, খুব সমস্যায় আছি।”
এদিকে চৌগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও দলিল লেখকরা জানান, মিউটেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জমি রেজিস্ট্রির সংখ্যা কমে গেছে, ফলে সরকারি রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
চৌগাছা পৌরসভার এক কর্মকর্তা জানান, এসিল্যান্ড পৌর প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করতেন। বর্তমানে এই পদ শূন্য থাকায় পৌরসভার কার্যক্রম অনেকটাই থমকে গেছে।
এ বিষয়ে ইউএনও ফারজানা ইসলাম বলেন, “এসিল্যান্ড না থাকায় আমাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। দুটি দপ্তরের পাশাপাশি পৌরসভার দায়িত্ব সামলানো একার পক্ষে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।”
চৌগাছাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে একজন স্থায়ী এসিল্যান্ড নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হোক।
মন্তব্য করুন