খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ময়না কাটা নদী দখল ও অবৈধ ভরাটের কারণে এখন প্রায় অস্তিত্ব সংকটে। এক সময় প্রবাহমান ও প্রাণচঞ্চল এই নদীটি বর্তমানে পানিশূন্য হয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নদীর দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে দাদা ভাই উপশহর নামে হাউজিং প্রকল্প, শিশুপার্ক, মডেল মসজিদ, শেখ হাসিনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালীদের দখলদারিত্ব, অপরিকল্পিত নির্মাণ এবং মাটি ভরাটের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কয়েক বছর আগেও ময়না কাটা নদীতে সারা বছর পানি থাকত এবং এটি ছিল কৃষি, মৎস্য ও নৌ-যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ময়নাকাটার নীমতলা থেকে মাদারীপুরে লঞ্চ চলাচল করত। এছাড়া মাদবরের চর থেকে পাঁচ্চর হয়ে ময়না কাটা বীল পদ্মা নদী হয়ে আড়িয়াল খাঁ নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ছিল এই নৌপথ।
কিন্তু ধীরে ধীরে নদীর তীর দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ, বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দেওয়া এবং মাটি ভরাটের ফলে নদীর গভীরতা কমে যায়। বর্তমানে অনেক জায়গায় নদীর বুকে চাষাবাদ করা হচ্ছে। এতে করে নদীর পানি ধারণক্ষমতা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে এবং বর্ষা ছাড়া বছরের অধিকাংশ সময় নদীটি শুকনো থাকে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, নদীটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়ায় সেচ ব্যবস্থায় মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে। আগে নদীর পানি ব্যবহার করে কৃষিকাজ করা গেলেও এখন গভীর নলকূপের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। জেলেরা জানান, এক সময় এই নদী ছিল দেশীয় প্রজাতির মাছের অভয়াশ্রম, কিন্তু নদী শুকিয়ে যাওয়ায় তারা এখন বেকার হয়ে পড়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালীদের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও উদ্যোগের অভাবে দখলদারিত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে।
উল্লেখ্য, এক সময় এই নদীপথ দিয়েই স্থানীয় হাটবাজার থেকে ধান, পাট, বাদাম, কলাইসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নৌপথে পরিবহন করা হতো।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত নদীটি দখলমুক্ত করে খনন ও পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে অচিরেই ময়না কাটা নদীর অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।
মন্তব্য করুন