ঢাকার অন্যতম অপরাধপ্রবণ এলাকা মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৩ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আসনটিতে চলছে জমজমাট প্রচার-প্রচারণা। আবদুস সালামের মতো ত্যাগীদের বাদ দিয়ে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজকে প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ায় বেশ অস্বস্তিতে বিএনপি। এ সুযোগ কাজে লাগাতে প্রস্তুত জামায়াত।
আসনটিতে অনেক আগে থেকেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুস সালাম। কিন্তু হঠাৎ করে এ আসনে বিএনপি সমর্থিত জোটের একক প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেন ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। এতে কিছুটা ছন্দপতন হয়েছে সালাম ও বিএনপির প্রচার-প্রচারণায়।
গত ১৫ অক্টোবর রাজধানীতে বিএনপি আয়োজিত পরিচিতি সভায় দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক বিএনপি জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ববি হাজ্জাজের নাম ঘোষণা করেন। দলের কঠিন সময়ে কর্মী-সমর্থকরা পাশে পেয়েছেন সালামকে। তিনিই এ আসনে বিএনপির কান্ডারি হবেন বলে আশা করেছিলেন তারা। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা এখনো প্রকাশ করেনি বিএনপি। তাই সালাম কিংবা অন্য কারও মনোনয়ন পাওয়া একেবারে শেষ হয়ে যায়নি বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
আসনটিতে বিএনপি থেকে আরেকজন নেতার নামও শোনা যাচ্ছে। তিনি দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী। ববি হাজ্জাজ সামনে আসায় বিএনপিতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কর্মী-সমর্থকরাও দ্বিধাবিভক্ত।
জামায়াতের পক্ষে একটি দুর্নীতিহীন দেশ উপহার দেওয়া সম্ভব। মানুষের ধারণা ছিল অভ্যুত্থানের পরে ভালো একটা সমাজ হবে। কিন্তু মানুষ দেখলো কী, সেদিকে আমি যাচ্ছি না। সেদিক থেকে জামায়াতের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে।-মো. মোবারক হোসাইন
বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও এক্ষেত্রে অন্য সব আসনের মতো এগিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী। দলের একক প্রার্থী হিসেবে মো. মোবারক হোসাইন প্রায় দিনই প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) মনোনীত প্রার্থী ফয়সাল তাহের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন আসনটিতে। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হোসাইন এলাকায় সক্রিয়। তিনি খাল ও মাঠ রক্ষায় মানববন্ধন করেছেন। সবমিলিয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে এ আসনে।
সরেজমিনে ঢাকার এ আসনটির বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। ভোটারদের মধ্যেও দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রবল। আসনজুড়ে আলোচনায় থাকা প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়া শুরু করেছেন। এলাকায় আবদুস সালাম ও ববি হাজ্জাজের বড় বড় ব্যানার দেখা গেছে। জামায়াত প্রার্থীর ব্যানার-ফেস্টুন সংখ্যায় বেশি। এনসিপিসহ অন্য দল আলোচনায় থাকলেও কোনো ব্যানার চোখে পড়েনি।
এলাকার সাধারণ ভোটাররা বলছেন, মোহাম্মদপুর ও আদাবর অপরাধপ্রবণ এলাকা। যে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে প্রার্থী হিসেবে তাকে বেছে নেবেন তারা।
প্রার্থীরা বলছেন, নির্বাচিত হলে মোহাম্মদপুর এলাকায় সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবেন। কিশোর গ্যাংসহ সব অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করবেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে অপরাধীদের দৌরাত্ম্যে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এলাকার বাসিন্দারা। কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তার জন্য গঠিত টহল দলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। অবশ্য পুলিশের দাবি, মোহাম্মদপুর ও আদাবরে অপরাধ আগের চেয়ে কমেছে।
মোবারক হোসাইনে ভারমুক্ত জামায়াত
জামায়াতের একক প্রার্থী দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোবারক হোসাইন মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, প্রচারণা চালাচ্ছেন। এলাকায় তার পোস্টার-ফেস্টুন প্রচুর।
জানতে চাইলে মো. মোবারক হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি এলাকায় আছি। জনগণের সঙ্গে আগে থেকেই আমার কানেক্টিভিটি রয়েছে। এরপরেও স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদরাসায় যাচ্ছি। মানুষের কাছে গিয়ে জানতে পেরেছি তারা একটা পরিবর্তন চায়, নতুন কিছু দেখতে চায়। তারা দুর্নীতিহীন রাষ্ট্র দেখতে চায়। প্রথম চাওয়া এটা। সেই চাওয়ায় জামায়াতের প্রতি মানুষের আস্থা আছে।’
মন্তব্য করুন