খবর ২৪ ঘন্টা
প্রকাশ : 28 অক্টোবর 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মেঘনায় ইলিশ কম, ধরা পড়ছে জাটকা

নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা মাছ শিকারে ফের নদীতে। জেলেদের আশা ছিল জালে ধরা পড়বে বড় ইলিশ। কিন্তু নদীতে দেখা নেই বড় ইলিশের, যা ধরা পড়ছে, তার মধ্যে জাটকার পরিমাণই বেশি। জেলেরা বলছেন, বড় ইলিশ ডিম ছাড়ার পর গভীর সাগরে চলে যাওয়ায় নদীতে মাছের পরিমাণ কমেছে। ফলে জালে বড় মাছ ধরা পড়ছে না। তবে মাঘ এবং ফাল্গুন মাসের দিকে কিছু মাছ ধরা পড়তে পারে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট এলাকার জেলে শাহজাহান বলেন, ১২ জেলে নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় মাছ শিকারে যাই। যে মাছ পেয়েছি, রোববার বিকেলে মজুচৌধুরীর হাটে এনে ৪০ হাজার টাকার মতো বিক্রি করেছি। কিন্তু আমাদের জ্বালানিসহ আনুষঙ্গিক খরচ হয়েছে ৩৬ হাজার টাকা। খরচ এবং বিক্রি মিলিয়ে তেমন লাভ হয়নি।

জেলে কামাল হোসেন বলেন, নদীতে মাছ নেই। অভিযানের পর ভাবছি মাছ ধরা পড়বে। কিন্তু আশানুরূপ মাছ ধরা পড়ছে না। কিছু মাছ ধরা পড়লেও সেগুলো একেবারে ছোট। প্রবীণ জেলে আবদুল কুদ্দুস বলেন, বিভিন্ন কারণে নদীতে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেও অনেকে নদীতে মাছ শিকার করেছে। এতে মা ইলিশ রক্ষা হয়নি। আবার অনেক জেলে জাটকা ইলিশ শিকার করেছে। এতে মাছের উৎপাদন কমে গেছে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক কারণেও মেঘনায় মাছের উপস্থিতি কম।

তিনি বলেন, মা ইলিশ ডিম ছাড়ার পর উত্তর দিকে পদ্মায় গিয়ে পড়ে। আবার কিছু মাছ দক্ষিণে গভীর সাগরে চলে যায়। তাই এ মুহূর্তে মাছ কম। তিনি জানান, আগামী মাঘ ও ফাল্গুন মাসের দিকে নদীতে মাছের দেখা মিলতে পারে। তখন হয়তো জালে মাছ ধরা পড়বে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষে রোববার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকেই উপকূলীয় মাছ ঘাটগুলোতে জেলে, আড়তদার, ক্রেতা এবং বিক্রেতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

মজুচৌধুরীর হাট মাছ ঘাটের আড়তদাররা বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম দিনে ঘাটে যে পরিমাণ ইলিশের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছি, তার চেয়েও কম দেখা মিলেছে। ফলে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে ইলিশ।

আরেক আড়তদার মো. সফিক বলেন, ইলিশের পাশাপাশি অন্য মাছও কিছুটা ধরা পড়েছে। তবে সেটাও কম। মাছ কম ধরা পড়ায় বাড়তি দামে বিক্রি হয়েছে। তিনি জানান, এক কেজি ওজনের ইলিশের হালি ৭ থেকে ৮ হাজার, আধা কেজি ওজনের ইলিশের হালি আড়াই হাজার এবং দেড় থেকে দুশ গ্রাম ওজনের জাটকার হালি ৩৮০-৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ঘাটের খুচরা মাছ বিক্রেতা কালাম বেপারী বলেন, মাছ না থাকায় বেশি দামে কিনতে হয়েছে। প্রথম দিনে যে পরিমাণ মাছের আমদানি আশা করেছি, তার থেকেও অনেক কম ছিল। ১০ বছর ধরেই নদীতে যেন মাছের পরিমাণ কমছে। তিনি বলেন, মাছের দাম চড়া হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।

নদীতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিমওয়ালা ইলিশ রক্ষায় গত ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি নিয়ে নদীতে মাছ শিকার করেছে একশ্রেণির অসাধু জেলে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

1

ইসলামিয়া সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের ৬ষ্ঠ ব্যাচের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

1

রায়গঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

1

তা'মীরুল মিল্লাত মাদ্রাসার পুকুরে ডুবে ছাত্রের মৃত্যু

1

২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার কোটি টাকা

1

পারস্পরিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় একমত পাকিস্তান-বাংলাদেশ

1

দেশে রিজার্ভ বেড়ে ৩২ বিলিয়ন ডলার

1

রুপার বাজারেও বড় পতন, আজ কত দামে বিক্রি হবে

1

পুঁজিবাজারে এসএমই কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে ডিএসই-ডিসিসিআই সমঝোতা

1

টানা কমার পর একলাফে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম

1

ওষুধের চেয়েও বড় খাত হতে পারে মেডিকেল ডিভাইস!

1

ব্যাংকের প্রকৃত মালিক কে?

1

‘ব্যবস্থাপনাগত একত্রীকরণে’র মধ্যেই ভবিষ্যৎ কৃষির সাফল্য নিহিত

1

হাসপাতালে ভর্তি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

1

কিশোর ক্রিকেটারের মৃত্যুতে শোকভারাক্রান্ত ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ

1

এক রাতেই ইউক্রেনের ১৯৩টি ড্রোন ভূপাতিত, দাবি রাশিয়ার

1

সামরিক বিমানের ধাক্কা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল টেসলা গাড়ি

1

বিশ্ববাজারে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম

1

সৌদিতে মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে তামাকের দোকান নিষিদ্ধ

1

কাশ্মীরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করবে পাকিস্তান

1