খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
রাজধানীর একটি মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে ১০ বছর বয়সী এক শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৬ বছর বয়স থেকেই শিশুটি ওই মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে আসছিল। বুধবার সন্ধ্যার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটি বিভিন্ন সময় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তার শরীরে এ ধরণের আলামত পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, এ কারণে সে মাদ্রাসার শৌচাগারে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে আসার পর তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে রামপুরা এলাকার ওই মাদ্রাসার তৃতীয় তলার একটি শৌচাগার থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রামপুরা থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সমকালকে বলেন, প্রাথমিক ধারণা শিশুটি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
মাদ্রাসার ছাত্রদের বরাত দিয়ে ওসি জানান, মাদ্রাসার অন্য এক শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময় শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করেছে। এ কারণে আত্মহত্যা করেছে শিশুটি। শিশুটির শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ওসি জানান, এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং আত্মহত্যা প্ররোচণার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা আসামিও করা রয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত ছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে আটকের কথা স্বীকার করা হয়নি। এ বিষয়ে ওসি বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মাদ্রাসাটির একজন শিক্ষক বলেন, শিশুটি মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর শৌচাগারে যায়। অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও বের না হওয়ায় শিক্ষকেরা শৌচাগারের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন, গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় রয়েছে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে জানানো হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মঙ্গলবার বিকেলে ছুটি নিয়ে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে গেছে। এর পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
শিশুটির নানা খবর ২৪ ঘন্টাকে বলেন, শিশুটির মা ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনদের সঙ্গে বুধবার বেলা ১২টার দিকে ঢাকায় আসেন। সন্ধ্যার পর লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তারা।
মন্তব্য করুন