খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও রঙিন ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী । পরে পতিসর কাচারি বাড়ির দেবেন্দ্র মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন । তিনি বলেন,
“পতিসরই ছিল রবীন্দ্রনাথের পল্লী উন্নয়নের ল্যাবরেটরি। এখান থেকেই তিনি সমবায় ও আধুনিক কৃষির স্বপ্ন দেখেছিলেন, যা আজও আমাদের সমবায় দর্শনের অন্যতম ভিত্তি।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক , নওগাঁর ছয়টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।
বক্তারা পতিসরকে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি কবির স্মৃতিকে ধারণ করে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তারা।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকেই পতিসরে নামে মানুষের ঢল। আঁকাবাঁকা মেঠোপথ ধরে দূর-দূরান্ত থেকে আগত মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে নাগর নদের তীর। কাচারি বাড়ির আমতলায় বসেছে বর্ণিল গ্রামীণ মেলা। মাটির পুতুল, নাগরদোলা ও লোকজ বাদ্যযন্ত্রের সুরে পতিসর যেন ফিরে পেয়েছে তার জমিদারি আমলের উৎসবমুখর আবহ।
আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীরা পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য। কবির “আমাদের ছোট নদী” থেকে শুরু করে পতিসরে বসে রচিত অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি নতুন করে প্রতিধ্বনিত হয় দেবেন্দ্র মঞ্চে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর কবিগুরুর জন্মদিন উপলক্ষে নওগাঁর এই নিভৃত পল্লী পতিসর হয়ে ওঠে রবীন্দ্রভক্তদের তীর্থস্থানে। আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আগামী কয়েকদিন ধরে নানা সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মসূচি চলবে।
মন্তব্য করুন